ডলার সংকট কাটাতে এবার নতুন উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন থেকে প্রবাসী আয়ে ও রফতানিকারকদের জন্য ডলারের মূল্য নির্ধারণ করে দেয়া হবে। এক্ষেত্রে দেশের ব্যাংকগুলো মিলে ডলারের মূল্য নির্ধারণ করবে। ফলে এখন থেকে নির্ধারিত মূল্যেই প্রবাসী আয় আসবে এবং রফতানি আয় নগদায়ন হবে। ব্যাংকগুলোর প্রস্তাবিত ডলারের মূল্য নিয়মিত পর্যালোচনা করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
গতকাল ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) সঙ্গে বৈঠক করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেখানেই এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রবাসী আয়ে একদর বেঁধে দেয়া হবে। এখন থেকে কোনো ব্যাংক বেশি দাম দিয়ে বিদেশ থেকে আয় সংগ্রহ করতে পারবে না। পাশাপাশি নির্ধারিত মূল্যেই রফতানিকারকদের নিজ ব্যাংকের মাধ্যমে বিল নগদায়ন করতে হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন এবিবির চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেন এবং বাফেদার চেয়ারম্যান ও সোনালী ব্যাংকের এমডি আতাউর রহমান প্রধানসহ দুই কমিটির সংশ্লিষ্ট সদস্যরা।
সভা শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, নিয়মিত ভিত্তিতে যে ডলার বিক্রি হচ্ছে, তা অব্যাহত থাকবে। রফতানিকারকদের নিজ ব্যাংকে ডলার নগদায়ন করতে হবে। বাফেদা ও এবিবি ডলারের এক মূল্য নির্ধারণ করে দেবে, যা মেনে চলবে সব ব্যাংক। এ দামেই প্রবাসী আয় আনতে হবে।
তবে এ সিদ্ধান্তে ডলার সংকট কাটবে না বলে মনে করছেন অনেকে। সভায় উপস্থিত একজন ব্যাংকার বলেন, ডলারের যে চাহিদা তৈরি হয়েছে, তার জোগান না বাড়লে সংকট বাড়তেই থাকবে। দাম ধরে রেখে ও নিয়ন্ত্রণের চিন্তা থেকে বের হয়ে বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যা দেশের জন্য ভালো হবে।
এর আগে ১৯ মে ডলারের বাজারে অস্থিরতা নিরসনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে বাফেদা এক চিঠি দেয়। চিঠিতে বাফেদার পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংককে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব দেয়া হয়। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ছিল-বৈধভাবে পাঠানো রেমিট্যান্সের প্রণোদনা আড়াই শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা, বাজারের চাহিদা বিবেচনা করে ডলার সরবরাহ করা, বাজারের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে ডলার ক্রয়-বিক্রয়ে আন্তঃব্যাংক বিনিময় হার পুনর্নির্ধারণ করা। আর সব অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংক বিদেশী এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো থেকে ‘একক বিনিময় হারে’ লেনদেন করবে এবং সেই হার আন্তঃব্যাংকের মধ্যে লেনদেনের থেকে কমপক্ষে শূন্য দশমিক এক শতাংশের কম হবে। এই একক বিনিময় হার কঠোরভাবে তদারকি করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাফেদার এসব প্রস্তাবের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাফেদার মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।