বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি যতবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছে ততবারই দেশ গড়েছে। বিএনপিতে লুটপাটের কোন ইতিহাস নেই। ১৯৭২ সন থেকে ৭৫ পর্যন্ত শেখ মুজিবের সময়ে শুধু লুটপাট হয়েছে। আ.লীগের ইতিহাসই লুটপাট-দুর্নীতি। তাই আগামীতে কৃষকের ভাগ্য গড়ার মাধ্যমে সমৃদ্ধশালী দেশ গড়ার প্রত্যয় রয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহসভাপতি মামুনুর রশিদ খান।
শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি ) বিকেলে সদরের দাপুনিয়া ইউনিয়নের ইছামতি তেল পাম্প সংলগ্ন ইসলামগাতি দাখিল মাদরাসা মাঠে বিশাল কৃষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এবং কৃষকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ১৯৭৫ সালে মুজিব সিন্ডিকেট করে ৫০ পয়সার লবন ৪০ টাকা করেছিল। তার মেয়ে শেখ হাসিনা ৪০ টাকার চিনিকে ১৪০ টাকায় উন্নীত করে পালিয়ে গেছে। আরেক স্বৈরাচার এরশাদ লুটপাট করে দেশকে ধ্বংস করেছিলেন।
এরপর বেগম খালেদা জিয়া এসে কৃষকের জন্য ব্যাপক অবদান রেখে কৃষিকে সমৃদ্ধশালী করেন। কৃষিকে আধুনিকায়ন করেন। আধুনিক টেকনোলজি ব্যবহার করে ধানের ফলন বৃদ্ধির জন্য কাজ করেন। সেই সময়ে কৃষকের ৫ হাজার টাকা লোন মওকুফ করেন। ২৫ বিঘা পর্যন্ত খাজনা দিতে হতো না। রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলে কৃষকের জন্য কর্মসূচি গ্রহণ করেন। বরেন্দ্র অঞ্চলে এখন ব্যাপক ধান উৎপাদন হয়, সেগুলো খালেদা জিয়ার অবদান। দেশে মশলা উৎপাদনের কারিগরও বেগম খালেদা জিয়া।
তিনি বলেন, আমরা যত বড় শিক্ষিত হই না কেন, আসল পরিচয় কিন্তু কৃষকের সন্তান। উন্নয়নের চরম শিখড়ে দেশকে নিতে গেলে কৃষিখাতকে আধুনিকায়ন করতে হবে।
শেখ পরিবারের দুর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ১৬ বছর কৃষকরা ন্যায্য কথা বললেই জেলে যেতে হয়েছে। বিদ্যুৎখাতকে লুটপাট করে ধ্বংস করেছে। হাজার হাজার কোটি ডলার বিদেশে পাচার করে পালিয়ে গিয়ে আরাম আয়েশে দিন কাটাচ্ছে। দুর্নীতি করে বিদেশে মন্ত্রীত্ব হারিয়েছে ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিক। হাসিনার চেয়ে বড় মাফিয়া, জঙ্গি, লুটপাটকারী বিশ্বে কোথায় নেই। দুর্নীতি হাসিনার পারিবারিক শিক্ষা।
কৃষি ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চায়নায় গিয়ে পরিদর্শন করে দেশে এসে চাইনিজ মেশিন ব্যবহার করে দেশের কৃষিকে চরম আধুনিকায়ন করেন। কৃষকের উন্নয়নের দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের পরিকল্পনা হিসেবে তিনি অত্যাধুনিক কৃষি যন্ত্র আবিষ্কার করেন। আধুনিক টেকনোলজি ব্যবহার করে কৃষকের কাজকে সহজিকরণ করেন। সব সময় কৃষক ও কৃষি উপকরণ নিয়ে জিয়াউর রহমান ভাবতেন। চরের উৎপাদিত ফসল যাতে সহজে শহরে পৌঁছানো যায় সেই ব্যবস্থাসহ যাবতীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছিলেন তিনি।
আগামীতে দেশ নায়ক তারেক রহমান ক্ষমতায় আসলে কৃষকদের কর্মসংস্থান করা হবে। কৃষকদের সন্তানদের পড়াশোনা, চাকরির ব্যবস্থা এবং ঘরে ঘরে উদ্যোক্তা তৈরি করা হবে বলেও তিনি বক্তব্যে যোগ করেন।
কৃষকদলের দাপুনিয়া ইউনিয়নের সভাপতি নজরুল ইসলাম চন্দর মল্লিকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ ভুট্টুর সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন, জেলা কৃষক দলের সভাপতি আবুল হাশেম এবং সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসিফ, সিনিয়র সহ- সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান বাচ্চু যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহসানুল হক মুন্না,সাংগাঠনিক সাম্পাদক আমিরুল ইসলাম নিক্সন, পাবনা সদর উপজেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব মো: সাইদুল ইসলাম ছাপ্পান প্রমুখ।